১৯৭১ সালে সারোয়াতলী ইব্রাহিম নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন কিছু তথ্য :
দেশ স্বাধীনের পূর্বে সারোয়াতলী গ্রামে কেবল মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো। ছিলো না কোন উচ্চ বিদ্যালয়, ছিলো না কোন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। অত্র এলাকার ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করার জন্য ৩/৪ গ্রাম পেরিয়ে উচ্চ বিদ্যালয়সমূহে যেতে হতো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে যারা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার চিন্তা করতেন তাদেরকে তখন শাকপুরা উচ্চ বিদ্যালয়, কে,বি,কে,আর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সারোয়াতলী পিসি সেন উচ্চ বিদ্যালয়, কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়, এবং আহ্ল্লা সাদার পাড়া নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয় এসবের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হতো।
আমাদের এলাকার অধিকাংশ ছেলেরা শাকপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তেন। মেয়েরা বেঙ্গুরা কে,বি,কে,আর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তেন। সকালে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতেন বিকেলে স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যেতো। তখন রাস্তা ঘাট পাকা ছিলো না, মেঠোপথ বর্ষা কালে কাঁদা আর পানিতে একাকার। দূর্বল যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীর অভিভাবকগণ শঙ্কিত থাকতেন। যাঁরা তখন পড়াশোনা করেছেন তাদের সীমাহীন দূর্ভোগ ও কষ্টের মাঝে পড়াশোনা শেষ করতে হয়েছে। তাছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছলতার কারণে সকলের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য ছিলো।
এলাকায় খেলাধুলার জন্য কোন মাঠ ছিলো না, খেলার জন্য যেতে হতো কানুরদীঘির উত্তর-পশ্চিম কর্ণারে ঢালু জায়গায়। এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা এবং খেলাধুলার কষ্ট দূরীকরণের তাগিদে সর্বপ্রথম চিন্তা করেন সারোয়াতলী জনকল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা সদস্য অত্র গ্রামের কৃতি সন্তান মরহুম সৈয়দুল হক সিদ্দিকী (যিনি ব্রিটিশ আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম,এ ডিগ্রিধারী)। তিনি তাঁর চিন্তা ভাবনার কথা শেয়ার করেন তারই একান্ত আপন মানুষ ব্যাংকার জালাল আহমদ চৌধুরী(রুপালী ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন) এবং এনামুল হক সিকদার(বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের চাকরিজীবি) সাহেবের কাছে।
তাঁহারা উক্ত সারোয়াতলী জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তারা সৈয়দুল হক সিদ্দিকীর বাড়িতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকের ফলপ্রসু কোন সমাধান না হওয়ায় সকলে খুবই মর্মাহত হন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল সারোয়াতলী গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে থাকবে। আলোর মুখ দেখবে না। এ চিন্তায় উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন ভঙ্গুর হতে থাকে। কিন্তু তারা হাল ছাড়লেন না। তারা ঐক্যমতের ভিত্তিতে অত্র এলাকার উদীয়মান ব্যবসায়ী জনাব নুর মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করিলেন। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন তরুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী জনাব নূর মোহাম্মদ চৌধুরী তাদের প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করেন। তিনি জানালেন, "আপনারা আমার সাথে থাকলে আমার সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিতে আমি ইচ্ছুক।"
যে কথা সে কাজ। অতঃপর তিনি ১৯৭১ সালে স্ব-উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজে হাত দেন। যা আজ দৃশমান ৫৪ বছরে পদার্পন করেছে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সৈয়দুল আলম খোন্দকার, সামশুল ইসলাম চৌধুরীও স্কুল পরিচালনার কাজে যুক্ত হন। প্রাথমিক অবস্থায় স্কুল ঘর বাঁশের তৈরির সিদ্ধান্ত হয় এবং স্থান বর্তমান স্কুল ভবনের দক্ষিণে পুকুরের জায়গায় (তখন ইট খোলা ছিলো)। স্কুলের স্থান নির্ধারণ করে জায়গা দান করেন জনাব নূর মোহাম্মদ চৌধুরী। স্কুলের বেড়ার ঘর তৈরির কাজ শুরুর আগে ৩৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলায় একটি কক্ষে ক্লাস শুরু করা হয়। সর্বপ্রথম বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান শুরু করেন মরহুম আবুল কালাম সিকদার (বালা), পরবর্তীতে অত্র এলাকার অনেক জনকল্যাণ সমিতির অন্তর্ভুক্ত কলেজে পড়ুয়া ছাত্ররা এবং চাকরিজিবীরাও খন্ড কালীন সারোয়াতলী ইব্রাহিম নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করেছেন। তাদের মধ্যে জনাব মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন চৌধুরী, প্রকৌশলী আবুল কালাম সিদ্দিকী, প্রকৌশলী আবু তাহের সিদ্দিকী, ইউসুফ মিয়াজি, আহমদ হোসেন সিকদার (মোহরম আলী মাস্টার), এনামুল হক সিকদার প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
স্কুলে প্রথম শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় কক্সবাজারের রামুর থানার অধিবাসী এম,এ,হাসেম যিনি জালাল আহমদ চৌধুরী সাহেবের বাড়িতে লজিং থাকতেন, তিনি তখন চট্টগ্রাম আইন কলেজে অধ্যায়ন করতেন। স্কুলের রাতে দিনে সার্বিক দেখা শুনা ও দফতরীর দায়িত্ব পালন করতেন মরহুম আবুল বশর তালুকদার এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ, শিক্ষিত যুব সমাজের আন্তরিকতা এবং দানবীর জনাব নুর মোহাম্মদ চৌধুরীর আর্থিক সহযোগিতায় বীজ থেকে মহীরুহ রুপে প্রতিষ্ঠিত হয় সারোয়াতলী ইব্রাহিম নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়। আজ সারোয়াতলী ও পাশের গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে ছেলে মেয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত। এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কলেজের শিক্ষক, সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, ডাক্তার, কর্পোরেট হাউজের সিইও, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা সহ নানা শ্রেণি পেশায় প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। এই স্কুলের শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদনের জন্যে তৎকালীন সময়ে সহযোগিতা করেছিলেন কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরহুম কাজী আবদুল গনী সাবেরী সাহেব। আমি তাদের প্রত্যেকের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জনাব নুর মোহাম্মদ চৌধুরীর অবদান শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠায় সীমাবদ্ধ ছিল না।
সারোয়াতলী ইব্রাহিম নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে ক্রীড়া ও বিনোদনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ অংশগ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি বিরাট একটি খেলার মাঠ তৈরি করেন। যে মাঠে ফুটবল খেলা শিখে, জাতীয় পর্যায়ে খেলার উপযোগী খেলোয়াড় তৈরি হয়। জাতীয় পর্যায়ের অনেক খেলোয়াড় এসে এ মাঠে তাদের খেলোয়াড়ী নৈপুণ্য দেখিয়ে গেছেন। যা আমরা সারোয়াতলী গ্রামবাসী মনোমুগ্ধতায় উপভোগ করেছি।
০১/০১/১৯৭১ ইং
০১/০১/১৯৭৩ ইং
০১/০১/১৯৭৪ ইং
০১/০১/১৯৭৫ ইং
প্রিয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীগণ-
আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ উপলক্ষ্যে আমি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে এই ওয়েবসাইট আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম, সাফল্য এবং বিভিন্ন তথ্য সবার কাছে অতি দ্রুত ও সহজে পৌছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আমি বিশ্বাস করি এই উদ্যোগ আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে।
আল্লাহ আমাদের সকল প্রচেষ্টাকে সফল করুন। -আমিন
ধন্যবাদান্তে,
মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন
প্রধান শিক্ষক
সারোয়াতলী ইব্রাহিম নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়
আলহামদুলিল্লাহ, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অসীম কৃপায় সারোয়াতলী ইব্রাহিম নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, চারিত্রিক গুণাবলি ও বাস্তব জীবনের দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা।
বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক-কর্মচারী তাঁদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। আমি বিশ্বাস করি, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রতিষ্ঠান আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সুস্থ ও সফল রাখুন—এই কামনা করছি।
ধন্যবাদান্তে,
ওসমান গনি চৌধুরী
সভাপতি
সারোয়াতলী ইব্রাহিম নুর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়
শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী তথ্য
শিক্ষক-শিক্ষিকার নামসহ শ্রেণিভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ রুটিনঃ
সাম্প্রতিক কার্যক্রমের স্থিরচিত্র
ডাকঘর-ইকবালপার্ক, উপজেলা- বোয়ালখালী, জেলা- চট্টগ্রাম।
Tel: ০১৩০৯- ১০৪১৩১